র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই জঙ্গি
নান্দাইল থানায় র্যাবের তিন মামলা দায়ের, জঙ্গি শফিউলের লাশ নিয়েছে তার মা
স্টাফ রিপোর্টার ● নান্দাইল নিউজ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে র্যাব-জঙ্গি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় র্যাব বাদি হয়ে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের
করেছে। আজ শনিবার (০৬ আগস্ট) নান্দাইল মডেল থানায় হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা হয়। মামলা তিনটিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা তিনটির বাদী হন ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর দুইজন উপ-পরিদর্শক। অন্যদিকে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি শফিউল ইসলামের লাশ
তার মা গ্রহণ করেছে।
মামলা বিবরণে সরকারী কাজে বাধাদান,
বোমা নিক্ষেপ ও অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে হতাহত এবং জানমালের
ক্ষতিসাধন করা ইত্যাদি অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আতাউর রহমান
মামলা নথিভূক্ত করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এদিকে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোতালিব হোসেন চৌধুরী
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে মুঠোফোনে বলেন, নিহত জঙ্গি শফিউল ইসলামের লাশ নেওয়ার জন্যে তাঁর মা নার্গিস
সুলতানা শিউলী তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছেন। পরে শফিউল ইসলামের
লাশ তার মা গ্রহণ করেছে। তবে নিহত অপর যুবকের
এখনো পরিচয় মেলেনি।
নান্দাইল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
মামলার তিনটি এজাহারের বিবরণ প্রায় একই। হত্যা, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় নথিভূক্ত
করা হয়েছে।
মামলার আসামির কলামে অজ্ঞাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ওসি আতাউর রহমান বলেন, তিনটি মামলায় গতকাল
শনিবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
র্যাব-১৪ এর ডিএডি দেলোয়ার হোসেন ও শাহিন
মিয়ার দায়ের করা এজাহারের বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার এলাকার মো. আবদুল হাইয়ের ছেলে জামা-আতুল
মুজাহিদিনের (জেএমবি) সদস্য মো. শফিউল ইসলাম ইসলাম কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলার ঘটনায়
গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে র্যাবের প্রহরায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শল্যবিভাগে
ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শফিউলকে গত ৪ আগস্ট
কিশোরগঞ্জ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে নেওয়ার পথে নান্দাইলের ডাংরি বন্দ এলাকার একটি
নির্জনস্থানের বিকেবি ইটভাটার কাছে র্যাব আক্রান্ত হয়। পরে আক্রমণকারী সাথে র্যাবের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে র্যাবের হেফাজতে থাকা বুলেটপ্রুফ
জ্যাকেট পরিহিত শফিউল পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণ থামার পর
শফিউলসহ অজ্ঞাত ২১ বছর বয়সী এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত’ গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শোলাকিয়া
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শফিউলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার
রাতে কিশোরগঞ্জ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। র্যাব প্রহরায় একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে জঙ্গি শফিউলকে নেওয়া হচ্ছিল। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ডাংরি এলাকায়
কাজলের পরিত্যাক্ত ইটভাটার সামনে কালো রঙের প্রেস লেখা টিভিএস মেট্রো ও লাল রঙের একটি
এাপাচি মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পেছন দিক থেকে এসে শফিউলকে বহন করা
সাদা মাইক্রোবাসটি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। ওই অবস্থায় র্যাব গুলি শুরু করলেও জঙ্গি ছিনতাই করতে আসা ৪-৫ সদস্যের সন্ত্রাসীরা
র্যাবকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি করে। প্রায় আধাঘন্টা র্যাব
ও জঙ্গি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল ও অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর র্যাব রাস্তার পাশে বুলেট ফ্রুপ জ্যাকেট পরিহিত জঙ্গি
শফিউলসহ দুইজনকে পড়ে থাকতে দেখে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত
চিকিৎসক আরিফ মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুই জনের মধ্যে জঙ্গি শফিউলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও অন্য সন্ত্রাসীর পরিচয়
নিশ্চিত করতে পারেনি ও র্যাব ও পুলিশ।
ঘটনার তিন দিন চলে গেলেও ঘটনাস্থল ও আশাপাশের
এলাকার লোকজনের মাঝে এখনো এক ধরনের আতঙ্ক বিবরাজ করছে। অজ্ঞাত নামা অভিযুক্ত
করে মামলা হওয়ার পর এই আতঙ্ক আরো বাড়ছে। এলাকার লোকজন জানান,
আমরা নিরীহ মানুষ কখন কী হয় তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
(প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনুমতি ছাড়া ‘নান্দাইল নিউজ’-এর ওয়েবসাইটের কোন লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ‘ সময়ের আয়না’ ফেসবুক আইডি আমাদের সহযোগি সামাজিক গণমাধ্যম। তবে ‘নান্দাইল নিউজ’- এর প্রিয় পাঠকগণ যে
কোন নিউজ ও ছবি ফেসবুকে শেয়ার করলে কোন আপত্তি থাকবে না)